Banik Barta features Asif Khan, CFA

Here is the article featured by Banik Barta

কোম্পানির সূচনা পর্বে বিনিয়োগ: শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ

এক দশকের বেশি সময় ধরে আমি শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ সময়ে আমি শিখেছি, অনেক কমন ধারণাই শেষ পর্যন্ত আমাদের বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণ হিসেবে সবগুলো ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা প্রসঙ্গে ফিন্যান্স ক্লাসের শিক্ষাটির কথাই আলোচনা করা যাক। এ উক্তিটি খুবই জনপ্রিয়। অথচ বিশ্বসেরা সম্পদ ব্যবস্থাপকরা সাধারণত বিনিয়োগকে যথাসম্ভব কেন্দ্রীভূত রাখতেই পছন্দ করেন। তারা বলেন, বৈচিত্র্যের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর বদলে তালিকায় থাকা ব্যবসাগুলোকে ভালোমতো বিশ্লেষণ করে একটি মার্জিন অব সেফটি নিশ্চিত করে কেনা ভালো। কারণ ডাইভারসিফিকেশন কিন্তু রিটার্নও কমিয়ে দেয়। বিনিয়োগের ৪০টি ভালো আইডিয়া বাস্তবায়ন করার চেয়ে তালিকার শীর্ষ ১৫-২০টিতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করাই ভালো নয় কি? ওয়ারেন বাফেটের মতো বিনিয়োগকারীদের পারফরম্যান্স এ দর্শনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এ ধরনের শিক্ষাগুলো পাবলিক মার্কেটে বিনিয়োগে আমাকে অনেক সহায়তা করেছে। এখন আমি অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট নিয়েও এগোনোর চেষ্টা করছি। দ্রুতই বুঝে উঠেছি, পাবলিক মার্কেটের জন্য শেখা অনেক কিছুই এখানে ভুলে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বরং সফল স্টার্টআপ বিনিয়োগের সূত্রগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর মধ্যে কয়েকটি পয়েন্ট শেয়ার করছি।

ডাইভারসিফিকেশন নিছক সুপারিশ নয়, বরং অত্যাবশ্যক

একটি কোম্পানির শুরুর দিকে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কোন কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত সফল হবে আর কোনটি ব্যর্থ হবে, তা আগে থেকে জানার কোনো উপায় এখনো আবিষ্কার হয়নি। এখনো পর্যন্ত কোনো রিসার্চই বলতে পারে না, তিন বছর পর একটি স্টার্টআপ কোম্পানির বিক্রি কত দাঁড়াবে। তাই স্টার্টআপ পোর্টফোলিওর জন্য কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগ ‘রেসিপি ফর ডিজাস্টার’ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশ্বের প্রথিতযশা অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের বেশির ভাগই মত দেন, কমপক্ষে ৩০-৪০টি কোম্পানির একটি পোর্টফোলিও গঠন করতে হবে।

ভ্যালুয়েশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়

এখন পর্যন্ত আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ভ্যালুয়েশন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা। শেয়ার মার্কেটে রিটার্ন পারফরম্যান্স অনেকাংশেই ফেয়ার ভ্যালুর চেয়ে কমে কিনতে পারার ওপর নির্ভর করে। একজন ভ্যালু ইনভেস্টরের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, পাবলিক মার্কেটে ভ্যালুয়েশনই সবচেয়ে বড় বিষয়। অন্যদিকে স্টার্টআপে ভ্যালুয়েশনের চেয়ে বড় বিষয় হলো, সঠিক কোম্পানিটির ওপর বাজি ধরা। সপ্তাহে ১৫ শতাংশ হারে বিক্রি বাড়ছে—এমন একটি স্টার্টআপ কোম্পানি আপনি ২ কোটি টাকায় কিনলেন না ৩ কোটি টাকায় কিনলেন, সেটি কোনো বিষয়ই নয়।

বিশ্লেষণের ফোকাস: কোয়ালিটি ওভার কোয়ান্টিটি

করপোরেট সুশাসন, ম্যানেজমেন্টের দক্ষতার মতো কোয়ালিটেটিভ বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাবলিক কোম্পানি বিশ্লেষণে ব্যবসার একটি ট্র্যাক রেকর্ড থাকে, যেখান থেকে কোয়ান্টিটেটিভ বিশ্লেষণগুলো করা যায়। কিন্তু একটি স্টার্টআপ কোম্পানি বিশ্লেষণে এমন অতীত উপাত্তের সাহায্য নেয়া যায় না। ব্যক্তিত্ব, মেধা, দক্ষতা, যোগাযোগ সবকিছুর সমন্বয়ে একজন উদ্যোক্তা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কতটা সফল হতে পারেন, আমাদের সেটিই বিবেচনা করতে হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ অ্যাক্টিভিজম সাকসেস রেট বাড়ায়

পাবলিক মার্কেটের বিনিয়োগকারী হিসেবে আমরা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টকে সেরা কাজটি করার জন্য প্রভাবিত করতে পারি। আমাদের দেশে এ চর্চা বিরল হলেও উন্নত বিশ্বে শেয়ারহোল্ডারদের অ্যাক্টিভিজম বেশ প্রচলিত। স্টার্টআপ কোম্পানির উদ্যোক্তাকে ভালো প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক, সরবরাহকারী, মেধাবী কর্মী, গণমাধ্যম ইত্যাদির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতা করতে পারেন অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টররা। প্রকৃতপক্ষে, স্টার্টআপ উদ্যোক্তারাও এ সাপোর্টগুলো কতটা পাবেন, বিনিয়োগকারী বাছাই করার সময় তা বিবেচনা করেন।

Find the original content: https://bit.ly/2Wb0Uf3

Leave a Reply

Close Menu
Shares